দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

লক্ষ্মীপুরে ভূমি অফিসের অডিট করার নামে ঘুষ দাবির অভিযোগ উঠেছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের (রাজস্ব) জেলা হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মো. মনজুরুল আলমের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের অডিটের নামে সদর উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে অফিসপ্রতি ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করেছেন তিনি। সব মিলিয়ে তার দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ ১২ লাখ ৬০ হাজার টাকা। দাবি অনুযায়ী টাকা না দিলে অনিয়মের অভিযোগে ফাঁসিয়ে হয়রানি করার হুমকিও দিয়েছেন বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তাদের।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ অর্থ আদায়ের বিষয়ে গত ৫ ও ৬ অক্টোবর রাতে জেলা শহরের পুরাতন শহীদ মিনার এলাকার একটি একতলা ভবনে ভূমি অফিসের কর্মকর্তাদের নিয়ে দুই দফা বৈঠক করেন মনজুরুল আলম। তাদের দাবি, সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯টা এবং ৬ অক্টোবর রাত ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তাকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা গেছে।
অভিযোগকারীরা জানান, বৈঠকে অডিটের নামে অর্থ দাবির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। কয়েকজন কর্মকর্তা নিজ নিজ অফিসের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরে দাবিকৃত অর্থ কমানোর অনুরোধ জানান। তবে এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মনজুরুল আলম অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন এবং লাখ টাকার অডিট আপত্তি দেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ তাদের। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের অডিও রেকর্ডও রয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
অভিযোগ রয়েছে, ৭ অক্টোবর একটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অডিট করতে গিয়ে নগদ ৬০ হাজার টাকা নেন মনজুরুল আলম। পরে অন্য একটি অফিসে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে অডিট না করেই এক সহযোগীকে নিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এরপর ১১ অক্টোবর থেকে আবারও অডিটের নামে অর্থ দেওয়ার জন্য ভূমি কর্মকর্তাদের চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির এক নেতা বলেন, ‘অফিসপ্রতি ৬০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করেছেন অডিট কর্মকর্তা। অনেক অনুরোধ করেছি, কিন্তু তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অটল। তার চাহিদা পূরণ না করলে নানা অজুহাতে ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। আমরা অসহায়।’
এদিকে, গত অর্থবছরেও জেলার বিভিন্ন ভূমি অফিস থেকে অর্ধকোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে মনজুরুল আলমের বিরুদ্ধে। এর আগে কুমিল্লা উত্তর অঞ্চলে অডিট সুপারিনটেনডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালেও তার বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. মনজুরুল আলমের সঙ্গে কথা হলে ভূমি কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক এবং অর্থ গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। তবে দাবিকৃত অর্থের পরিমাণ নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করে বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি নিয়েছি। তবে তারা যতটা বলেছেন, আসলে ততটা নয়। এখানে অনেক বিষয় আছে। আমার ক্ষতি করে কী লাভ? আমার সঙ্গে সম্পর্ক রাখুন, অনেক সুবিধা পাবেন।’
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মাহবুব হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে উপসহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তারা অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি ভূমি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই